Saturday , November 16 2019
Breaking News
Home / শিক্ষা মূলক / গল্প / একদিন কলাকোপা গ্রামে ভ্রমণ কাহিনী

একদিন কলাকোপা গ্রামে ভ্রমণ কাহিনী

 

ঢাকার খুব কাছেই দোহারের একটি গ্রাম কলাকোপা, পাশের গ্রাম বান্দুরা। ঢাকা মহানগনর থেকে দেড় ঘন্টার পথ।

আমরা ছিলাম এগারো জন। কোন নির্দিষ্ট গন্তব্য ছিলো না। পথে হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে ঘুরে দেখবো। যখন ক্ষুধা লাগবে সামনের কোন দোকান বা হোটেল থেকে খেয়ে নিবো।
খুব সকালে বাসে করে বাবুবাজার পার হয়ে বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুর ওপর দিয়ে নবাবগঞ্জ যেতে আমাদের সময় লাগে দেড়ঘন্টা। সোজা পথে কলাকোপা চলে গিয়ে রাধানাথ সাহার বাড়ির সামনে।

বাস থেকে নেমে আমরা ছোট একটু হোটেলে হুমরি খেয়ে ঢুকে পরলাম। প্রচণ্ড ক্ষুধা জানান দিচ্ছে। দেখলাম আজকে হোটেলের মেনু ছিলো খিচুড়ি আর ডিম ভাজা। আমাদের হাসি দেখে কে । এক কথায় অমৃত। তারপর শুরু করলাম হাঁটা। সেই সাথে চলছে আমাদের আড্ডা। আজ যেনো সবাই বাঁধন হারা।

রাধানাথ সাহার বাড়িটি পেছনে ফেলে এবার একটু সামনে যাই। গন্তব্য খেলারাম দাতার বিখ্যাত বিগ্রহ মন্দিরে। মন্দিরের পাশেই রয়েছে বিশাল পুকুর।আমরা ঘুরে ফিরে বারবার দেখি। তারপর চলে আসি ইছামতির তীর ধরে একটু সামনেই পাইন্নাবাড়ি। এই বাড়ির তিন মালিকের অন্যতম মধুবাবু পান বিক্রি করে ধনী হয়েছিলেন বলেই বাড়িটির নাম পাইন্নাবাড়ি। মজার না।

পাইন্না বাড়ি থেকে আমরা আবার আসি আনসার ক্যাম্পে। ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে দেখা পাই একটি ভাঙ্গা মন্দিরের, যার পেছনের বাড়িটির নাম কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িটির অবস্থা সামনের ভাঙ্গা মন্দিরের মতই ভগ্নদশা। যেন কোনও রকমে দাঁড়িয়ে থেকে তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে চলেছে। তার পাশেই উকিল বাড়িটি অবশ্য ঝকঝকে-তকতকে। উকিল বাড়ির পাশেই কলাকোপার বিখ্যাত জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন। জজ বাড়ি এখন কলাকোপা-বান্দুরার প্রাণ। এই বাড়িকে ঘিরেই এখানে বাজার গড়ে উঠেছে। প্রচুর দর্শনার্থী আসে প্রতিদিন। রাস্তার এপাশে জজ বাড়ি, অন্যপাশে দোকান, বাজার, চা-আড্ডা। একেবারে জমজমাট পুরো এলাকা।

এখানে এসেই আমরা কিছু পিয়াজু আর মুড়ি কিনে খেলাম।আমি আবার কথা ছাড়া থাকতে পারি না। দোকানদারের সাথে শুরু করলাম বকবক। দোকানদার আমাদের ফ্রিতে চা খাওয়ালো। আমার জন্য ওরা (বন্ধুরা) ফ্রি চা খেলো তা তারা শিকার ই করলো না। কেমন নেমকহারামীর দল।
জজ বাড়ি থেকে একটি পথ সোজা চলে গেছে, আমরা সোজা পথ ধরলাম। হলিক্রস স্কুলের পাশ ঘেঁষে চলে আসি জপমালা রানীর গির্জায়। এলাকাটির নাম হাসনাবাদ, সেজন্য এলাকাবাসী গির্জাটিকে বলেন হাসনাবাদ গির্জা। ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত এই গির্জাটি গথিক শিল্পকর্মের অনন্য নিদর্শন। পুরো গির্জাটি হলুদ রং ধারণ করে দাঁড়িয়ে। যার শরীর জুড়ে অপরূপ কারুকাজ। গির্জার ছাদে রয়েছে বিশাল একটি ঘন্টা। পুরো এলাকা গাছ-গাছালিতে ঘেরা। গির্জার সামনেই জপমালারানীর নামাঙ্কিত ফলক তার স্মৃতি ধরে রেখেছে।

সবচেয়ে বড় কথা এখানে যা দেখলাম সব পরিষ্কার আর পরিচ্ছন্ন। ওরা রাস্তাঘাট গুলো খুব পরিষ্কার করে রেখেছে । গ্রামের এলাকা তারপর ও কেমন ঝকঝকে। দেখে খুব ভালো লাগলো। এলাকার মানুষ জনও আন্তরিক (ফ্রি চা খাওয়াইছে)। এবার ফেরার পালা। ক্লান্তি যেনো ক্ষমা করছে না।

কি কি দেখবেন এখানে :

ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিশাল এক ভাণ্ডার কলাকোপা-বান্দুরা। উনিশ শতকেও এখানে জমিদারদের বসতি ছিল। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখ জুড়ানো, যার প্রাণ ইছামতি নদী। এখানে দেখার অনেক কিছু আছে।কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ির পাশে উকিল বাড়ি তারপর জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন (যা এখন জজ বাড়ি নাম ধারণ করেছে) ব্যবসায়ী রাধানাথ সাহার বাড়ি, শ্রীযুক্ত বাবু লোকনাথ সাহার বাড়ি (যার খ্যাতি মঠবাড়ি বা তেলিবাড়ি নামে) মধুবাবুর পাইন্না বাড়ি, পোদ্দার বাড়ি এবং কালি বাড়ি। ঢাকার খুব কাছে স্থাপত্য সৌন্দর্যে ঘেরা ইতিহাস ঐতিহ্যের কলাকোপা-বান্দুরা। কলাকোপা-বান্দুরার স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছে গ্রীক আর্কিটেকচারের আদলে। এখানে আরও আছে খেলারাম দাতার বিগ্রহমন্দির, মহামায়া দেবীর মন্দির আর একটু দূরের হাসনাবাদে জপমালা রানীর গির্জা। তাছাড়া সামসাবাদ তাঁত শিল্পসহ আলালপুরের বিখ্যাত হস্তচালিত তাঁতশিল্প তো আছেই। এর বাইরে অনেক পুরানো ভবন ও মঠ চোখে পড়বে কলাকোপা-বান্দুরায়।

কীভাবে যাবেন

কলাকোপা-বান্দুরায় দিনে গিয়ে দিনেই ফেরা সম্ভব। সে জন্য একেবারে সকালে রওনা হতে হবে। গুলিস্তান, বাবুবাজার, কেরানীগঞ্জ, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি থেকে সরাসরি কলাকোপা-বান্দুরার বাস সার্ভিস রয়েছে। তবে দলবেঁধে মাইক্রোবাস নিয়ে গেলে দারুণ একটা পিকনিক হয়ে যাবে। নিজস্ব পরিবহন নিয়ে যেতে পারলে নবাবগঞ্জের জায়গাগুলো বেড়ানো সহজ হবে। আর সে ব্যবস্থা না থাকলে যেতে পারেন বাসে। ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা। নবাবগঞ্জ নেমে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে ঘুরতে পারবেন জায়গাগুলোতে।

অন্যান্য গল্প পড়ুন

About Bithi Sultana

Check Also

লাল গোলাপ

লাল গোলাপ

লাল গোলাপ বহুকাল আগে গ্রামে এক কৃষক বাস করতো। তার ছিল একটি মাত্র কন্যা। তার …

One comment

  1. ধন্যবাদ ভ্রমণের জন্য এত ভালো একটা ঠিকানা দেবার জন্য ❤

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *