Saturday , December 7 2019
Breaking News
Home / কারেন্ট ওয়ার্ল্ড / এক রাখালের গল্প

এক রাখালের গল্প

২য় খণ্ড
জাহাঁপনা খবর পায় এক পাগল তার সাথে সাক্ষাৎ করতে চায়। তাকে সাক্ষাৎ করার অনুমতি না দেওয়ায় সে কান্নাকাটি করতেছে।জাহাঁপনা মন্ত্রীকে আদেশ দেয় পাগলকে রাজ দরবারে নিয়ে আসার জন্য। তাকে রাজ দরবারে নিয়ে আসা হলো।
__তুমি আমার সাথে কেনো সাক্ষাৎ চেয়েছ? নির্ভয়ে বলতে পারো।
মন্ত্রী তো ভয়ে মাথা নিচু করে জাহাঁপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সে কিছুই বলতেছে না। বললে তো সাথে সাথেই তার গর্দান চলে যাবে। এক পাগলের জন্য সে কেন নিজের সর্বনাশ নিজে করবে?
—-পাগল বললো, আমি আপনার মেয়ের বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।

—জাহাঁপনা পাগলের কথাটি শুনে একটি মুচকি হাসি দিলো।
এবং মন্ত্রীর দিকে তাকালো।
এতো ভালো কথা, তবে যার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হবে সে কোন রাজ্যের রাজকুমার? আমি তাকে দেখতে চাই। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। মন্ত্রী আপনি এখনি খবর নেন ছেলে কোন রাজ্যে থাকে?সে দেখতে কেমন, স্বভাব চরিত্র কেমন, সে কোন রাজার সুযোগ্য পুত্র যে কিনা তার বিবাহের প্রস্তাব একটি পাগলের মাধ্যমে আমাকে জানিয়েছে। আমি দেখতে চাই সে কেমন বীরপুরুষ?
এদিকে মন্ত্রীর কোন উত্তর নেই। রাজ দরবারে যারা উপস্থিত ছিল তারাও চুপ হয়ে আছে কোন কথাই বলছে না কেউ।

জাহাঁপনা পাগলকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, তুমি চিন্তা করো না আমি এখুনি তার সব খবরাখবর নিচ্ছি। তুমি শুধু তার ঠিকানাটা বল।

পাগল আমতা আমতা করছে। এত বড় একটা কথা জাহাঁপনাকে বলবে জাহাঁপনা তো রেগে যাবে সাথে সাথেই। আর সে কি শুধুই রেগে যাবে তা নয়, শাস্তি স্বরূপ তাকে ফাঁসি ও দিয়ে দিতে পারে। অনেক চিন্তা ভাবনা পাগলের মনে। কিন্তু এই কথাটা তো জাহাঁপনাকে বলতেই হবে। দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষা করেছে আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে, ছেঁড়া ময়লা পোশাক পরে দিন কাটিয়েছে, লোকজনের মার খেয়েছে। এতদুর পর্যন্ত যখন এসেছে আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়ার আশায় তখন তো জাহাঁপনাকে কথাটা বলতেই হবে, যেভাবেই হোক। পিছু ফিরে তাকালে হবে না। কিছু পেতে গেলে কিছু হারাতেই হবেই। আমি না হয় পৃথিবীর সুখ শান্তি সব বিসর্জন দিলাম। আমার বিশ্বাস এর প্রতিদান আমি একদিন অবশ্যই পাব।

পাগল বুকে অনেক সাহস নিয়ে জাহাঁপনার সামনে মাথা উঁচু করে বললো,
সে কোন রাজ্যের রাজকুমার নয়। সে সাধারণ একজন মানুষ। আর স্বভাব চরিত্র লোকজন বিচার করে। যে লোকের মন মানসিকতা যেমন সে ঠিক সেই রকমেরই বিচার করে। আর মানুষ চাঁদের চেয়েও সুন্দর। আল্লাহ তাআলা মানুষকে অপরূপ সুন্দর্য্য দিয়ে তৈরি করেছে। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত সৃষ্টির সেরা জীব তার চেহারা চালচলন কথাবার্তার ধরন কোন প্রাণীর সাথেই মিলবে না।

__আরে তুমি এত কথা বাড়াচ্ছ কেন? তাড়াতাড়ি বলো না সেই সৌভাগ্যবান ছেলেটি কে? যে আমার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

__ জাহাঁপনা আমিই সেই পাত্র। আমি আপনার মেয়েকে বিবাহ করতে চাই।

কথাটি শুনেই জাহাঁপনার মাথা ঘুরে গেল। সে অবাক করা দৃষ্টিতে পাগলের দিকে অনেকক্ষণ চেয়ে থাকল। মনে হচ্ছিল সাথে সাথেই জাহাঁপনা বেহুশ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু না, সে বেহুশ হয়নি। সে পাগলের দিকে তাকিয়ে তার কথার শুনে রেগে যাচ্ছিল। রাজ দরবারে যারা যারা উপস্থিত ছিল তারা ভয় পেয়ে গেল! কি হলো জাহাঁপনার !আজ বুঝি রাজ দরবারে বড়োসড়ো কোন তাণ্ডব ঘটবে।

কিছুক্ষণ পরেই জাহাঁপনা বলে উঠলো আমার মেয়েকে বিয়ে করার তোমার কোনো যোগ্যতা আছে? তোমার কোন সুন্দর বাড়ি নেই, কড়ি নেই, পোশাক নেই বিয়ে করে কোথায় আমার মেয়ে কে রাখবে?
তুমি কি করে ভাবলে যে তোমার সাথে আমি আমার মেয়েকে বিবাহ দিব। তোমার তো সাহস কম নয়। আর এই অন্যায়ের জন্য তোমাকে তো শাস্তি পেতেই হবে। মন্ত্রী এই পাগলকে এক্ষুনি কারাগারে নিক্ষেপ করো।

পাগল কাঁদতে কাঁদতে জাহাঁপনার পায়ে পড়ে গেল। আপনি একটু দয়া করুন, একটু করুণা করুণ আমাকে আপনি কারাগারে নিক্ষেপ করবেন না। আপনি যা বলবেন আমি তাই শুনবো। আমার আপন বলতে এই পৃথিবীতে কেউ নেই। আমাকে হাসানোর জন্য কেউ নেই। আর আমার বিপদে কাঁদার জন্য ও কেউ নেই। আপনার মেয়েকে বিবাহ করার জন্য যদি কোন পাত্র নিজ থেকে এগিয়ে আসে তাহলে আপনি যদি তাদের কারাগারে নিক্ষেপ করেন তাহলে তো আপনার মেয়েকে বিবাহ দেওয়া সম্ভব হবে না। সবাই ভয় পাবে, কোনো পাত্রকেই আপনি খুঁজে পাবেন না।
এতটুকু অন্যায়ের জন্য যদি আপনি আমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন তাহলে রাজ্যের বড় বড় রাঘব বোয়ালদের কোথায় রাখবেন। দয়া করে একটু ভেবে দেখুন। কথা বলতে বলতেই পাগল কাঁদতে লাগলো তার কান্না কোনমতেই থামানো যাচ্ছিল না। পাগলের কান্নার শব্দে প্রাসাদের সবাই অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছিল। তাই পাগলের কান্না থামানোর জন্য এবং তাকে প্রাসাদ থেকে বের করার জন্য জাঁহাপনা তার রাগ সংযত করলো।

__সত্যিই কি আমি যা বলব তুমি তাই শুনবে।

__হ্যাঁ আমি আপনার সব আদেশ পালন করব।
জাহাঁপনা পাগলের কথা শুনে তাকে ছেড়ে দিল। আমি তোমার সাথে আমার মেয়ের বিবাহ দিতে রাজি আছি। তবে আমার একটি শর্ত আছে। তোমাকে তা পালোন করতে হবে।
__আপনার কি শর্ত পালন করতে হবে আমাকে বলুন আমি এক্ষুনি তা পালন করব।
—তাহলে আমাকে সাত রাজার ধন মানিক রতন এনে দিতে হবে।
—পাগল পরল মহাচিন্তায়। আমি বলেছি এখনি জাহাঁপনার শর্ত পালন করব। কিন্তু জাহাঁপনা সাত রাজার ধন মানিক রতন এনে দিতে বলেছে এটা আমি কোথায় পাব।

—কি হলো চুপ করে আছো কেন। তুমি যদি এটা এনে দিতে পারো তাহলেই আমি আমার মেয়েকে তোমার সাথে বিবাহ দিবো।

—-হ্যাঁ আমি রাজি আছি। তবে ওয়াদা দিতে হবে এবং কাগজে কলমে লিখে রাখতে হবে প্রমাণ হিসেবে ।সাক্ষী হিসেবে পাঁচজন লোকের স্বাক্ষর দিতে হবে কাগজে। এবং রাজ্যের প্রধান সিলমোহর ও ব্যবহার করতে হবে।যদি আমি আপনাকে মানিক রতন এনে দেই তাখন যদি আপনি আপনার মেয়েকে আমার সাথে বিবাহ দিতে অস্বীকার করেন সেই কারণে।

—- জাহাঁপনা কোনো কিছু না ভেবেই পাগলের সব কথাই মেনে নিল। জাহাঁপনা মনে মনে বলে, আরে তুমি তো পাগল তুমি কিভাবে মানিক রতন আনবে। তুমি কোনদিনও মানিক রতন আনতেও পারবে না আর আমার মেয়েকে বিয়েও করতে পারবে না। আমি এত বড় রাজ্যের রাজা আমিই তো কখনো মানিক রতন দেখিনি তাহলে তুমি কিভাবে আনবে।
…হা… হা… হা… হা..

—-পাগল তৎক্ষণাৎ রাজার রাজ্য থেকে বিদায় নিলো মানিক রতন আনার উদ্দেশ্যে।

পাগল আনমনে পথে-পথে, বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় আর ভাবতে থাকে। কোথায় সে মানিক রতন পাবে? মানিক রতন দেখতে কেমন? যদিও বা কোন দিন দেখে তাহলে কিভাবে চিনবে যে এটাই মানিক রতন? নানা প্রশ্ন তাঁর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

হাঁটতে হাঁটতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং পিপাসায় কাতরাচ্ছিল। তৃষ্ণা মেটাতে সে সমুদ্রের কাছে যায় অতঃপর পানি পান করে সে তার তৃষ্ণা মিটায়। সে মনে মনে ভাবে হয়তো সমুদ্রের তলদেশে মানিক রতন পাওয়া যাবে। কিন্তু কিভাবে, সমুদ্রের পানি আমি কিভাবে সেচব। সমুদ্রের পানি তো আল্লাহর দেয়া নেয়ামত, একমাত্র আল্লাহই পারে আমাকে সাহায্য করতে।
সে আনমনে হাত দিয়ে সমুদ্রের পানি সেচতে থাকে। পানি সেচতে সেচেতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একটি গাছের নিচে বসে সে বিশ্রাম নেয় এবং সেখানেই সে ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবে প্রায় অনেক দিন অতিবাহিত হয়।
প্রতিদিনের মতো সে সমুদ্রের পানি সেচতে থাকে।

হঠাৎ সেখানে এক ব্যক্তির আগমন ঘটে।তাকে সালাম দেয়,পাগল ও তার সালামের জবাব দেয়।
—আরে পাগল তুমি এ কি করছ। এভাবে হাত দিয়ে পানি সেচে কি তুমি সমুদ্রের পানি কমাতে পারবে। কখনোই পারবে না, আর মানিক রতন ও কোন দিন পাবেনা। তুমি যেখান থেকে এসেছো সেখানেই চলে যাও।
–পাগল অবাক হল এবং মনে মনে ভাবল এ তো যেমন তেমন লোক নয়, আমি যে এখানে মানিক রতন খুঁজতে এসেছি সেটা তো তাকে বলিনি, সে কিভাবে জানলো নিশ্চয়ই সে কোন মহান ব্যক্তি। তার কাছ থেকেই আমি মানিক রতন এর সন্ধান পাব। পাগল সাথে সাথেই লোকটির পা দুটো জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। আমি এখান থেকে যাবো না, কেনই বা যাবো এখান থেকে। আমি একমত্র আল্লাহর সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্যই এখানে এসেছি। অনেক কষ্ট সহ্য করেছি, আপনি দয়া করে আমাকে সাহায্য করুণ, আমি জানি আপনি আমাকে সাহায্য করতে পারবেন। আপনি আমাকে একটু দয়া করুণ, একটু করুণা করুণ। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন আমি আপনার গোলামী করবো।
লোকটির পা দুটো সে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরেছিল যে কোনোভাবেই ছাড়ানো যাচ্ছিলো না।
অবশেষে লোকটি পাগলকে বললো তুমি তোমার কান্না বন্ধ কর এবং সমুদ্রের তলদেশে তোমার হাত বাড়াও।

চলবে
____সাথী____

About Bithi Sultana

Check Also

মশা থেকে বাঁচার ৭ টি প্রাকৃতিক উপায়।

মশার জ্বালায় অস্থির হয়ে উঠেছেন সবাই ? (মশা থেকে বাঁচার ৭ টি প্রাকৃতিক উপায়) এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *