Monday , December 9 2019
Breaking News
Home / শিক্ষা মূলক / গল্প / ঘুঘু ও ফাঁদের গল্প

ঘুঘু ও ফাঁদের গল্প

ঘুঘু ও ফাঁদ দুই ভাই। কিন্তু দুই ভাই হলে কী হবে!তাদের মধ্যে ‘সাপ ও বেজির সম্পর্ক’। অর্থাৎ-একজন অন্যজনকে সহ্যই করতে পারে না।তাদের মধ্যে সারাক্ষণ গেঞ্জাম-ফ্যাসাদ লেগেই থাকে।বড় ভাই ঘুঘু, সরল প্রকৃতির মানুষ।ছোট ভাই ফাঁদ, চতুর, ধুরন্ধর।একদিন হলো এক কাণ্ড।দুই ভাইয়ের মধ্যে তুমুল মারামারি।ফাঁদ, ঘুঘুর নাক ফাটিয়ে দিল।কল কল করে রক্ত বেরিয়ে এলো।ঘুঘু মনের দুঃখে বাড়ি এবং গাঁ ছেড়ে অন্য এক গাঁয়ে আসল।সারাদিন কিছু খায়নি।ক্ষুদায় ওর পেটের নাড়ি-ভুঁড়িগুলো কুলুর সূরা পড়ছে।কিছু খাওয়ার দরকার।কিন্তু ওর পকেটে একটি টাকাও নেই।কি দিয়ে ও খাবার কিনবে?অবশেষে ঘুঘু পরিশ্রান্ত হয়ে একটি বটবৃক্ষের নিচে বিশ্রামের জন্য বসে পড়ল।ও বসে বসে ভাবতে লাগল-আমাকে যেকোনো একটা কাজ খুঁজে নিতে হবে।কাজ না করলে খাব কী?কিছু খেতে হলে তো অবশ্যই কিছু করতে হবে।ঘুঘু অন্যমনস্ক হয়ে বসে এইসব কথাগুলিই ভাবছিল।এমন মুহূর্তে একজন অপরিচিত লোক ওর সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল-কি ব্যাপার হে! কে গো তুমি?

ঘুঘু লোকটির দিকে ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে বল-আমার নাম ঘুঘু।ঐ গাঁয়ে আমার বাড়ি।এখানে একটি কাজের জন্য এসেছি।যদি একটি কাজ ও মাথা গোঁজার ঠাঁই পাই, তাহলে সেই বাড়িতে পেটে ভাতে থেকে যাব।

লোকটি ভুরু কুঞ্চিত করে বলল-আরে মিয়া কও কী, তুমি কাজ করবা? ‘আহো, আমার লগে আহো।আমি তোমার কাজ জোগাড় করে দিচ্ছি।ঘুঘু লোকটির পিছে পিছে হাঁটতে লাগল।লোকটি তাকে ঐ গাঁয়ের কিপটে জমিদার আকুব্বরের বাড়িতে নিয়ে গেল।জমিদার সবকিছু শোনার পর বলল-আমার এখানে কাজ করতে হলে তোমাকে দু’টি শর্ত মেনে নিতে হবে।

শর্ত একঃ ‘তোমাকে কাঁঠাল পাতায় ভাত খেতে হবে’।

শর্ত দুইঃ ‘আমার এখান থেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে চলে গেলে তোমার নাকটা কেটে দিয়ে যেতে হবে’।

ঘুঘু অন্য কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে জমিদারের এই শর্ত মেনে নিয়ে তার বাড়িতে কাজ শুরু করল।সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর খাওয়ার ওয়াক্ত এলে জমিদার তাকে কাঁঠাল পাতায় এক চামচ ভাত ও সামান্য তরকারি দেয়। এইভাবে সামান্য খাবার খেয়ে ঘুঘু এক সপ্তাহ পর্যন্ত জমিদার বাড়িতে কাজ করল।এরপর ঘুঘুর পা আর চলতে চায় না।শরীর ভীষণ খারাপ হয়ে পড়ে।কাজ করার শক্তি ও সাহস ঘুঘুর নেই।ও অপারগ হয়ে বলল-জমিদার মশাই, আমি আর এ কাজ করতে পারছি না।দয়া করে আপনি আমাকে ছেড়ে দেন।

ঘুঘুর কথা শুনে কিপটে জমিদার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল।তুমি বললেই আমি ছেড়ে দেব?আমার শর্ত অনুযায়ী তোমার নাকটা কেটে দিতে হবে।ঘুঘু পড়ে গেল মহা বিপদে।উপায় তো নেই! সে তো শর্ত মেনে নিয়ে কাজ করতে রাজি হয়েছে।

কিপটে জমিদার ঘুঘুর নাক কেটে দিল।নাক দিয়ে অনবরত রক্ত বের হচ্ছে ।ঘুঘু দুই হাত দিয়ে নাক চেপে ধরে এক দৌড়ে বাড়িতে এসে হাজির হলো।ঘুঘুকে এমতাবস্তায় দেখে ফাঁদের বড় মায়া হলো।কষ্টও পেল ভীষণ।ফাঁদ রাগে দাঁত কিড়মিড় করে বলল-ভাই, একবার বল কে তোর এই অবস্থা করেছে?আমি তার জীবনের তেরটা বাজিয়ে ছাড়ব।

ঘুঘু হাফাতে হাফাতে ক্লান্ত গলায় বলল-‘ভাই, ঐ গাঁয়ের কিপটে জমিদার আকুব্বর আমার এই হাল করেছে।এ কথা শুনে ফাঁদের আরো রাগ বেড়ে গেল।সে বিড়বিড় করে বলল-‘জমিদার, ঘুঘু দেখেছ কিন্তু ফাঁদ দেখনি’।ফাঁদ ঘুঘুকে বলল-ভাই, আমি জমিদার বাড়ি যাচ্ছি।তুই আমার জন্য কোন চিন্তা করিস না।আমি সুই হয়ে ঢুকব কিন্তু বেরোব ফাল হয়ে।

ফাঁদ জমিদারের বাড়িতে গিয়ে জমিদারের পা জড়িয়ে ধরে কাঁদা শুরু করল।

জমিদার মশাই, আপনি আমাকে বাঁচান।আমাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেন।কাজ না পেলে যে আমি না খেয়ে মারা যাব।ফাঁদের কথা শুনে জমিদার খুশিতে গদ্গদ করতে লাগল।সে বলল-‘কে গো তুমি?

আমি ফাঁদ।ঐ গাঁয়ে আমার বারি।তিনকুলে আমার কেউ নেই।আমি বড় দুঃখি, বড় একা।

‘আহা বাছা!তুমি বড্ড একা, তাই না?ফাঁদ অশ্রু সজল চোখে জমিদারের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ সূচক সম্মতি জ্ঞাপন করল।জমিদার বলল-তোমার কোন ভয় নেই বাছা।আজ পর্যন্ত আমার কাছে কাজের জন্য এসে কেউ খালি হাতে ফিরে যায়নি।তুমিও যাবে না।তা বাছা, আমার এখানে কাজ করতে হলে যে তোমাকে দু’টি শর্ত মেনে নিতে হবে ।

হ্যাঁ, মেনে নেব।

শর্ত ১ঃতোমাকে কাঁঠাল পাতায় ভাত খেতে হবে।

শর্ত ২ঃআমার এখান থেকে কাজ ছেড়ে চলে গেলে তোমার নাক কেটে দিয়ে যেতে হবে।ফাঁদ কিছু সময় নীরব থেকে বলল-‘জমিদার মশাই, আমারও একটা শর্ত আছে’।

জমিদার ভুরু কুঞ্চিত করে বলল-‘তোমার আবার কী শর্ত’?

যদি আপনি আমাকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেন তাহলে আপনার নাক কেটে দিতে হবে।জমিদার মনে মনে বলল-কিপটে জমিদার কখনো কাউকে তাড়িয়ে দেয় না, উল্টো কাজের লোকেরাই কাজ ছেড়ে দিয়ে তাদের নাক কেটে দিতে বাধ্য হয়।

জমিদার নির্ভয়ে বলল-ঠিক আছে, তোমার শর্তও আমি মেনে নিলাম।

না, শুধু মুখে মুখে মেনে নিলে হবে না।আমি কাগজে-কলমে লিখিত চাই।জমিদার কাগজ ও কলম এনে নিজের দুটি এবং ফাঁদের একটি শর্ত লিখল।এরপর দু’জনই তাতে স্বাক্ষর করল।জমিদার বাঁকা হাসি হেসে বলল-ফাঁদ, এবার তাহলে তুমি তোমার কাজ শুরু কর।

হ্যাঁ, করব।বলেন, কী কাজ করতে হবে?জমিদার হাত ইশারা করে বলল-ঐ খাল পাড়ে আমার একটি বেগুনের ক্ষেত আছে।তুমি ঐ ক্ষেতটি সুন্দর করে পরিষ্কার করে দাও।ফাঁদ একটি ধারালো দা দিয়ে বেগুন ক্ষেতে গেল।সমস্ত বেগুন গাছ গোড়া থেকে কেটে কেটে খালের জলে ভাসিয়ে দিল।

ঘণ্টা দুই পরে জমিদার এসে দেখল-তার সাড়ে সর্বনাশ।হায়, হায়!তুই এ

কী করেছিস?

ফাঁদ জমিদারের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল-কেনো, আমি আবার কী করলাম?আপনি যেমন বলেছেন, আমি ঠিক তেমনটাই করেছি।চেয়ে দেখুন, আপনার বেগুন ক্ষেত পুরো পরিষ্কার।কোথাও একটি বেগুন গাছও অবশিষ্ট নেই।জমিদার মাথায় হাত রেখে বসে পরল।আরে বকা!আমি তো তোকে একাজ করতে বলিনি।আমি বলেছিলাম-বেগুন ক্ষেতের মধ্য থেকে দুবলা ঘাস, বনমুলা, জারমনি লতা প্রভৃতি পরিষ্কার করতে।

ফাঁদ আড় চোখে জমিদারের দিক তাকিয়ে সরল গলায় বলল-‘জমিদার মশাই, ‘আমি বুঝতে পারিনি’। জমিদার মুখ ভার করে বসে রইল।তার মুখের দিক তাকানই যাচ্ছে না।মনে হচ্ছে যেন অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকার তার মুখের সর্বত্রই বিরাজ করছে।কিপটে জমিদারকে এই মুহূর্তে অসহায় মনে হচ্ছে।জমিদারের এমতাবস্থা দেখে ফাঁদের প্রাণ খুলে হাসতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু ও কী করে হাসবে, এই মুহূর্তে হাসলে যে সবকিছু মাটি হয়ে যাবে!জমিদারকে এর চেয়েও অনেক বড় বড় কষ্ট স্বীকার করতে হবে।ও হাঁড়ে হাঁড়ে বুঝবে, ‘ফাঁদ কী জিনিস’।‘তুমি ঘুঘু দেখেছ বার বার, কিন্তু ফাঁদ দেখনি একবারও’।

একবিঘা জমির বেগুন গাছ কেটে সাফ করে ফাঁদের ভীষণ ক্ষুদা লেগে গেল।ও জমিদারকে বলল-আমার ভীষণ ক্ষুদা পেয়েছে।জমিদার, ফাঁদের দিকে তাকিয়ে বিরস মুখে বলল-বাড়িতে চলো, তোমার খাবার ব্যবস্থা করছি।বাড়িতে গিয়ে জমিদার তার স্ত্রীকে ডেকে বলল-‘রুমা, ঘরে কী কাঁঠাল পাতা আছে’?

না গো, ঘরে আর কাঁঠাল পাতা নেই।

জমিদার ফাঁদকে বলল-তুমি গাছ থেকে কাঁঠাল পাতা নিয়ে আসো।ফাঁদ গাছ থেকে বড় এক ডাল কেটে আনল।এত বড় ডাল দেখে জমিদারের চোখ কপালের উপর উঠল।‘কী ব্যাপার ফাদ’!তুমি তো শুধু একটি কাঁঠাল পাতা আনবে, এত বড় ডাল কেটে আনলে কেনো?

ফাঁদ জমিদারের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল-আপনার কাগজের কোথাও এই কথা লেখা নেই যে, একটি কাঁঠাল পাতায় ভাত খেতে হবে।হ্যাঁ, এটা উল্লেখ আছে-কাঁঠাল পাতায় ভাত খেতে হবে।অতএব আমি যতগুলো কাঁঠাল পাতা বিছাবো-আপনাকে তত গুলোতেই ভাত দিতে হবে।

জমিদার নিজেই নিজের জালে আটকে গেল।সে আর কিছুই করতে পারল না।

 

 

 

 

শুধু হতাশ দৃষ্টিতে ফাঁদের দিকে তাকিয়ে রইল।

 

ফাঁদ অনেকগুলো পাতা বিছিয়ে সবগুলোতে ভাত নিয়ে পরিতৃপ্তির সাথে পেট ভোরে খেল।ওর খাওয়া শেষ হলে জমিদার বলল-‘ফাঁদ, তুমি আমাদের দক্ষিণ বাড়ের বিলের জমিটি চারপাশ দিয়ে সুন্দর করে চষে দাও।ফাঁদ গরু ও লাঙ্গল নিয়ে জমির চারপাশ দিয়ে সুন্দর করে একটা চষা দিয়ে, নিম গাছের ছায়াতলে শুয়ে বিশ্রাম করতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর জমিদার এসে দেখল-ফাঁদ নিমের ছায়ায় নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে।জমিদারের রাগ মাথায় উঠে গেল।সে চিৎকার করে বলল-‘এই ফাঁদ, তুমি কাজ ফেলে রেখে আরামে ঘুমাচ্ছ’?

ফাঁদ ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলতে ডলতে বলল-কে, জমিদার মশাই?এই অসময়ে আপনি আমার ঘুম ভাঙালেন কেনো?

আমার কাজের বারোটা বাজিয়ে ঘুমানো হচ্ছে?তোমায় দেখাচ্ছি মজা।আজ এখনি তুমি তোমার সবকিছু নিয়ে আমার বাড়ি থেকে নেমে যাবে।

‘তার মানে, আপনি আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন’?

জমিদার আর কোনো কথা বলতে পারল না।অকস্মাৎ তার কাগজে লিখিত শর্তের কথা মনে পড়ল।‘ফাঁদকে ছেড়ে দিলে তো তার নাক কাটা যাবে’!জমিদার পড়ে গেল ভীষণ বিপদে।সে মনে মনে চিন্তা করে দেখল-এই মুহূর্তে ফাঁদকে উত্তেজিত করা যাবে না।কারণ সে খুবই ধুরন্ধর।যা কিছু করার তা ধীরে-ধীরে করতে হবে।তাই জমিদার ফাঁদের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল-‘ফাঁদ, তোমাকে জমি চষার কাজ করতে হবে না।এটা আমি অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেব।তুমি আমার সঙ্গে আসো।ঐ পাশে কানার ভিটায় কিছু শুকনা ডালপালা জমে আছে।তুমি ওগুলো বাড়িতে নিয়ে রাখবে।

 

কানার ভিটায় গিয়ে জমিদার শুকনো ডালের বড় এক বোঝা ফাঁদের মাথায় দিয়ে বলল-আমার মা যেখানে রাখতে বলে সেখানে রাখিস।বোঝা এত ভারী যে, ফাঁদের নিয়ে যেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।ও অনেক কষ্টে বাড়িতে পৌঁছাল। মনে হচ্ছে দেহের সাথে ঘাড় আর মাথা যেন নেই।জমিদারের মা কুঁজো বুড়ি, উঠানের এক কোণায় কুঁজো হয়ে বসে রোদ পোহাচ্ছে।ফাঁদ বুড়িকে বলল-‘এই বুড়ি, কোথায় রাখবো’?বুড়ি বিরক্ত হয়ে বলল, জায়গা না পাস আমার মাথার ওপর রাখ।ফাঁদ অমনি কাঠের ভারী বোঝা বুড়ির মাথার ওপর ফেলে দিল।

বুড়ি কাঠের তলে চাঁপা পড়ে আর কথা বলতে পারল না।এরপর আরো কয়েক

 

 

 

বোঝা কাঠ এনে ফাঁদ ঐ কাঠের ওপর ফেলল।

সন্ধ্যার সময় জমিদার বাড়িতে এসে মা’কে ডাকাডাকি করতে লাগল।মায়ের কোনো সাড়া না পেয়ে সে স্ত্রীকে ডেকে বলল-রুমা, মা কোথায় গেছে, তার যে কোনো সাড়া পাচ্ছি না?

মা তো উঠানেই ছিল।

কই, উঠানে তো কেউ নেই!

এমন মুহূর্তে ফাঁদ বাড়িতে এল।জমিদার বলল-ফাঁদ, তুই কি আমার মা’কে দেখেছিস?

হ্যাঁ, দেখেছি ত।আপনার মা ঐ কাঠের তলে রয়েছে।

‘তার মানে’?

 

আপনিই তো আমাকে বলেছে-মা  যেখানে কাঠ রাখতে বলবে, আমি যেন সেখানেই রাখি।আমি বুড়িকে বললাম, কাঠ কোথায় রাখব?সে বলল, জায়গা না পেলে আমার মাথার ওপর রাখ।আমিও তাই করলাম।কাঠের বোঝাটি তার মাথার ওপর ফেললাম।

‘কি বললি তুই!আমার মা’কে মেরে ফেলেছিস’?জমিদার তাড়াতাড়ি কাঠ সরিয়ে দেখল, তার মা মরে কোলা ব্যাঙের মতো চ্যাপ্টা হয়ে পড়ে আছে।

জমিদার রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছে, ফাঁদ খুবই ধুরন্ধর।সে আমার জমি ও সবজির ক্ষেত নষ্ট করেছে।আমার মা’কে মেরেছে।আমার স্ত্রী এবং আমাকে যে মারবে না, তারও কোনো গ্যারান্টি নেই।ফাঁদকে তাড়িয়ে দেব সে সুযোগও তো নেই, তাহলে আমার নাক কাটা যাবে!জমিদার নিজেই নিজের জালে ভীষণ ভাবে আটকে গেল।এতদিন সে মানুষকে ঠকিয়ে এসেছে, আর আজ সে নিজেই-সেই প্রতারণার শিকার হলও।কথায় বলে, ‘চোরের দশদিন আর গেরস্থের একদিন’।তারও ঠিক সেই অবস্থা হয়েছে।জমিদার অনেক ভেবে-চিন্তে দেখল, তার পালিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।তাই জমিদার পরদিন সূর্য উঠার আগেই, তার স্ত্রীকে নিয়ে ঐ গাঁ ছেড়ে পালিয়ে যায়।

source: পোড়াবাড়ির ভূত রহস্য (বই)

About Santa Islam

Check Also

লাল গোলাপ

লাল গোলাপ

লাল গোলাপ বহুকাল আগে গ্রামে এক কৃষক বাস করতো। তার ছিল একটি মাত্র কন্যা। তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *