Monday , October 21 2019
Breaking News
Home / স্বাস্থ্য / ছয় মাস বয়সী শিশুর খাদ্য
ছয় মাস বয়সী শিশুর খাদ্য

ছয় মাস বয়সী শিশুর খাদ্য

সাধারণত একটা শিশু জন্মের পর থেকে ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খায়।কারণ এই ৬ মাসের শিশুর যাবতীয় পুষ্টিগুন মায়ের বুকেই থাকে। কিন্তু ৬ মাসের পর থেকে একটা শিশুর বাড়তি খাবারের প্রয়োজন পড়ে।শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বুকের দুধের পাশাপাশি এ সময় শিশুকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার দেয়া উচিত। তবে সেটা হতে হবে বাসায় তৈরি। কোন ভাবেই বাইরের তৈরি কেনা খাবার দেয়া যাবে না। এ সময়টা মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বেশ চিন্তায় পড়ে বাচ্চাকে খাওয়ানোর ব্যাপারে। তারপর শুরু হয় আশেপাশের একেক জনের এক এক রকম উপদেশ। তখন মা-বাবা আরও চিন্তায় পড়ে যায় কি করা উচিত এবং কি করা অনুচিত!
তাই চিন্তা না করে মনে রাখা উচিত এ-সময়টা শিশু কেবল মায়ের দুধ ব্যতীত অন্য খাবারের স্বাদ বুঝতে শুরু করে। তাই বাচ্চাকে কিছুতেই জোর করে খাওয়ানো যাবে না।দরকার হলে বাচ্চাকে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো যেতে পারে কিন্তু কিছুতেই জোর করে খাওয়ানো যাবে না। তাছাড়া নিত্যনতুন সিস্টেমও তৈরি করার প্রয়োজন নেই বাচ্চাকে খাওয়াতে। মনে রাখবেন ছয় মাস থেকে নয় মাসের মধ্যে একটা শিশুর খাবারের স্বাদ বুঝতে পারে।একে বলে “টেস্ট বাড”। অর্থাৎ বাচ্চা মায়ের বুকের দুধ ব্যতীত অন্য খাবারের স্বাদ বুঝতে পারে। একটা শিশুর ৬ মাস হয়ে গেলেই মা-বাবা চিন্তা করতে থাকে বাচ্চাকে কি খাওয়ানো যেতে পারে।

শিশুর খাবার ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে বারডেম হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের প্রধান তহমিনা বেগম বলেছেন – শিশুকে কোনভাবে বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না।শিশুকে নিত্যকার খাবার রান্না করে খাওয়াতে হবে। তবে খাওয়ানোর সময় কিছু জিনিস খেয়াল রাখতে হবে।
সেগুলো হলো>>

১) বাচ্চাকে খাওয়ানোর পাত্রঃ যেমন- বাটি, চামচ অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে এবং বাচ্চাকে খাওয়ানোর আগে যিনি খাওয়াবেন তার হাত সাবান বা হ্যান্ডওয়্যাস দিয়ে ধুতে হবে।
২) এ সময়ে বাচ্চার জন্য একটি পুষ্টিকর খাবার হলো বিভিন্ন সবজির খিচুড়ি। যেমন আলু,গাজর, পেঁপে বিভিন্ন সবজি দিয়ে পাতলা খিচুড়ি খাওয়ানো যায় বাচ্চাকে।খিচুরিটা বলা হয় বাচ্চার জন্য পরিপুরক একটা খাবার। তাই দিনে ১/৩ কাপ থেকে১/২ কাপ খিচুড়ি দেয়া যেতে পারে। সুজির হালুয়া দিতে পারেন ১/৪ থেকে ১/২ কাপ। সবজি পিউরি ১/৪ থেকে ১/৩ কাপ আর ফলের জুস করে, চটকে বা সুজিতেও মিশিয়ে দিতে পারেন ১/৪ থেকে ১/২ কাপ।
৩) বিভিন্ন ধরনের ফলের রস বাচ্চাকে খাওয়ানো যেত পারে। ফল থেকে রস বের করে খাওয়াবেন কিন্তু কোনভাবেই বাজার থেকে কিনে এনে কোন জুস বা ফলের রস খাওয়াবেন না।
৪) পাতলা করে সুজি রান্না করেও খাওয়ানো যেতে পারে।
৫) প্রোটিনযুক্ত বিভিন্ন খাবার -যেমন, মাছ, সবজি খাওয়ানো যেতে পারে।
৬) ১ থেকে ২ মাসের দেশি মুরগির মাংস এবং কলিজাও খাওয়ানো যেতে পারে।
৭) ছয় থেকে নয় মাসের শিশুকে বাড়তি খাবার দিনে ২ থেকে ৩ বার খাওয়াতে হবে।
৮) খাবার খাওয়ানোর সময় খেয়াল রাখবেন খাবার খেতে গেলে বাচ্চা কোন বাহানা বা কান্নাকাটি করে কি না বা বাচ্চার প্রস্রাব পায়খানায় কোন পরিবর্তন আসছে কি না। যদি বাচ্চার এই লক্ষণ গুলো দেখা যায় তাহলে সেই খাবার পরিবর্তন করতে হবে।

তবে বাচ্চাকে কোনভাবেই জোর করে খাওয়াবেন না।মনে রাখবেন বাচ্চার যদি খাবার ভালো লাগে অবশ্যই সে খাবে।তাই বাচ্চাকে অল্প অল্প করে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।আপনার শিশু যে খাবার খাইতে চাইবে না তার একটু স্বাদ পরিবর্তন করে আবার চেষ্টা করুন।
ভালো থাকুক প্রতিটি মা এবং তাদের সন্তানেরা।

About moktokotha

Check Also

অর্জুনের উপকারিতা

অর্জুনের উপকারিতা

অর্জুন গাছের ছাল বা নির্যাস আপনার স্বাস্থ্য এবং সুস্থতায় কতটুকু উপকারী হতে পারে, আসুন জেনে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *