Wednesday , September 18 2019
Breaking News
Home / ধর্মীয় / কবরের আযাবের কারণ ও কবরের আযাব থেকে মুক্তির উপায়
কবরের আযাব

কবরের আযাবের কারণ ও কবরের আযাব থেকে মুক্তির উপায়

কবরের আযাবের কারণ ও কবরের আযাব থেকে মুক্তির উপায়
কবরের আযাবের মূলত অনেক কারণ আছে
বুখারী শরীফে এসেছে,
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, (একবার) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ঐ দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে আর কোন কঠিন কাজের কারণে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ (আযাব দেয়া হচ্ছে) তবে তাদের একজন পরনিন্দা করে বেড়াত, অন্যজন তার পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। (রাবী বলেন) অতঃপর তিনি একটি তাজা ডাল নিয়ে তা দু’খন্ডে ভেঙ্গে ফেললেন। অতঃপর সে দু’খন্ডের প্রতিটি এক এক কবরে পুঁতে দিলেন। অতঃপর বললেনঃ আশা করা যায় যে এ দু’টি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের উভয়ের ‘আযাব হালকা করা হবে।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৩৭৮)

অতএব আমরা বুঝতে পারি প্রস্রাব -পায়খানা থেকে সতর্কতা অবলম্বন এবং পবিত্রতা অর্জন করতে না পারলে কবরের আযাব হতে পারে। এছাড়া কবরের আযাবের জন্য উপরের হাদিসে কারনগুলির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ আছে। একজনের কথা অন্য জনের কাছে বলা অর্থাৎ গীবত করাও কবরের আযাবের কারণ হতে পারে।তাছাড়া মিথ্যা কথা বলা, সুদ-ঘুষ খাওয়া, অন্যায়ভাবে কাউকে অত্যাচার করা এবং যেনার জন্যও কবরের আযাব হতে পারে।
যেনা অনেক ধরনের হতে পারে। চোখ দিয়ে খারাপ কিছু দেখলে চোখের যেনা,কান দিয়ে খারাপ কিছু শুনলে কানের যেনা,জেনার উদ্দেশ্যে হাত-পা বাড়ালে হাত পায়ের যেনা।এ সব কিছুই হতে পারে কবরের আযাবের কারণ।

এবার আসুন জেনে নেই কিভাবে কবরের আযাব থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি:

কোরআন শরীফে একটা সূরা আছে।সূরাটির নাম মূলক।হাদিস মতে, নিয়মিত রাতে সূরা মুলক পাঠকারী বা শ্রবণকারী কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাবে।”
আমরা যদি সূরাটি না তিলাওয়াত করতে পারি প্রতিদিন রাতে, তাহলে মোবাইলে ডাউনলোড করে ঘুমানোর আগে শুনতে পারি।
এছাড়া কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাবার অন্যান্য উপায় গুলো হলো, যথাসম্ভব হারাম কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।এছাড়া মিথ্যা বলা যাবে না, সুদ বা ঘুষকে না বলতে হবে, গীবত করা যাবে না।(গীবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাবার সাথে তুলনা করা হয়েছে)।

এবং কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য নবীজি আমাদের যে দোয়া এবং নিয়ম শিখিয়ে গেছেন তা পালন করা উচিত।নবীজি প্রতি ফরজ এবং মাগরিবের নামাজ শেষে এই দোয়াটা পড়তেন-“আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন্ আযাবিল কবরী”।
অর্থ- “হে আল্লাহ, আমাদের কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাবার তাওফিক দান করুন”।
আমিন।
এভাবে নামাজে এবং অন্যান্য সময় দোয়া পড়তে হবে এবং কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাবার সকল প্রকার চেষ্টা করতে হবে।।।

About moktokotha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *