Friday , October 18 2019
Breaking News
Home / ক্রিকেট / বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ রিভিউ

বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ রিভিউ

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ফেবারিট থেকেই  আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ২৬ তম ম্যাচে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজ এর মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই টসে জিতে যায় ম্যাচ ফেবারিট ক্যাপ্টেন ফিঞ্চ। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি ক্যাপ্টেন। তবে টাইগার ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মুর্তজা টার্গেট নিয়েই ভালো খেলার কথা বলেছেন। কেননা, গত ম্যাচে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের দেয়া ৩২২ রান এর টার্গেট ৫১ বল হাতে রেখে খুব সহজেই জিতে যায় টাইগাররা। আজকের একাদশে দুইটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে টাইগার বাহিনী। আর তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ক্যাঙ্গারু বাহিনী।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তনে সুয়ান মার্স, কেন রিচার্ডসন এবং জেসন বেহরেনডরফ এই তিনজনের জায়গায় আজকের ম্যাচে জায়গা পেয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা, নাথান কোল্টার নাইল এবং ইন্জুরি থেকে ফিরেছেন অল রাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস ফিরেছেন।

সাইফুদ্দিন এর ইন্জুরীতে একাদশে ফিরেছে রুবেল, মোসাদ্দেক এর ইন্জুরীতে এই বিশ্বকাপের নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছেন সাব্বির রহমান।

 

বরাবরের মতোই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ওপেন করতে আসেন ব্যাটিং লিজেন্ড ডেভিড ওয়ার্নার এবং অজি ক্যাপ্টেন অ্যারন ফিঞ্চ। ঠান্ডা মাথায় খেলা ডেভিড ওয়ার্নার এবং অ্যারন ফিঞ্চ প্রথম দশ ওভারেই তুলে নেন ৫৩ রান। ২০.৫ ওভারে দলীয় ১২১ রানে প্রথম উইকেট হারায় অজি বাহিনী। এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বোলিং করার সুযোগ পেয়ে দারুন বল করেছেন সৌম্য সরকার। সৌম্য সরকারের বলে রুবেল হোসেনের হাতে ক্যাচ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরার আগে ৫১ বল খেলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৩রান করেন অজি ক্যাপ্টেন অ্যারন ফিঞ্চ। ফিঞ্চের বিদায়ে ক্রিজে আসেন উসমান খাজা। ডেভিড ওয়ার্নার ও উসমান খাজা দুজন মিলে গড়েন রেকর্ড গড়া পার্টনারশীপ। ধীরগতিতে ইনিংস শুরু করা ডেভিড ওয়ার্নার আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসেন খোলস থেকে। দুজনেই শুরু করেন ঝড়ো ইনিংস। দুজনের ব্যাটিং পার্টনারশীপটা যেন বাংলাদেশের বোলিং লাইন আপকে নিঃশেষ করে দিলো। ১৪১ বলে ১৯২ রানের এই পার্টনারশীপ ভেঙ্গে যায় দলীয় ৩১৩ রানে। ডেভিড ওয়ার্নারের বিদায়ে ভাঙ্গে এই পার্টনারশীপ। সৌম্য সরকারের করা ৪৫ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ১১৫কি.মি. এর একটি স্লোয়ার ডেলিভারীতে প্যারিস্কোপ শট খেলতে গিয়ে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার আর তাতেই থার্ড ম্যানে দাঁড়িয়ে থাকা রুবেলের হাতে ক্যাচ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় এই অজি লিজেন্ডকে। বিদায়ের পূর্বে এই ব্যাটিং লিজেন্ড ১৪৭ বলে খেলেন ১৬৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস। ১৬৬ রানের ইনিংসটি সাঁজিয়েছেন ১৪ টি চার ও ৫ টি ছক্কায়।

 

                                                                 চিত্রঃ ডেভিড ওয়ার্নার ১৬৬ (১৪৭)

 

ওয়ার্নারের বিদায়ে তার জাতীয় দলের সতীর্থ ও অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজম্যান্ট তাকে সংবর্ধনা জানাতে একটুও দ্বিধা করেননি।

                                              চিত্রঃ স্টিভেন স্মিথ, অ্যারন ফিঞ্চ ও টিম ম্যানেজম্যান্ট

 

ব্যাটিংয়ে প্রোমোশন পেয়ে টপ অর্ডারে ব্যাট করতে আসা  গ্লেন ম্যাক্সওয়েল শুরু থেকেই বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। মাত্র ১২ বলে ৩৯ রানের পার্টনারশীপ গড়ে ম্যাক্সওয়েল এবং উসমান খাজা। যার মধ্যে ম্যাক্সওয়েল এর অবদান ১০ বলে ৩২ রান। সৌম্য সরকারের করা ৪৮ তম ওভারের ১ম বলেই শর্ট ফাইন লেগে রুবেলের হাতে বল রেখে এক রান নিতে চেয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু রুবেলের ডিরেক্ট হিটে ম্যাক্সওয়েল এর বিদায় ঘন্টা বেজে যায়। বিদায়ের আগে দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় ১০ বলে ৩২ রান করেন ম্যাক্সওয়েল। একই ওভারের ৫ম বলে দলীয় ৩৫৩ রানে মুশফিকুর রহমানের হাতে তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়ার পূর্বে ৭২ বলে ১০ টি চারের সাহায্যে ৮৯ রান করেন উসমান খাওয়াজা। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে পড়ে স্টিভেন স্মিথ এর দ্রুত বিদায়ে আর বেশি রান করতে পারেনি অজিরা। ৪৯তম ওভারের শেষে দলীয় ৩৬৮ রান করে অজিবাহিনী। তারপরেই শুরু হয় বৃষ্টি বাঁধা। বৃষ্টি শেষে ৫০ তম ওভারে ১৩ রান তুলে নেয় অজিরা আর তাতেই ৩৮১ রানের পাহাড়সমান রান করে টিম অস্ট্রেলিয়া। আর অস্ট্রেলিয়ার দিনে বল হাতে সফল ছিলেন সৌম্য সরকার। ৮ওভার হাত ঘুরিয়ে ৫৮ রান খরচে তিন তিনটি মূল্যবান উইকেট তুলে নেন এই পার্ট টাইম বোলার। সবাই যখন ওভার প্রতি ৭ রান এর বেশি খরচ করেছেন তখনও  ৫.৯০ ইকোনোমিতে বল করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ ওভার বল করে ৫৯ রান খরচ করে উইকেট শূণ্য থাকেন তিনি।

 

 

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারের ৫ম বলে তামিম ইকবালের সাথে ভুল বোঝাবোঝিতে অ্যারন ফিঞ্চ এর ডিরেক্ট থ্রু তে সৌম্য সরকারকে প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে হয়। এরপরেই ক্রিজে আসেন বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিব এবং তামিম এর পার্টনারশীপটা ধীরে ধীরে টার্গেট পূরণের দিকেই নিয়ে যাচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ার মতো বাংলাদেশও প্রথম পাওয়ার-প্লে তে তথা প্রথম দশ ওভারে কোন ৫৩ রান তুলে নিয়েছিল। কিন্তু এই ৫৩ রান তুলতে সৌম্য সরকারের উইকেটটা হারিয়েছিল। অপরদিকে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দশ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে তুলেছিল এই ৫৩ রান। তামিম সাকিব ১৮.১ওভারের বেশি তাদের এই পার্টনারশীপটা রাখতে পারেনি। ১৯ তম ওভারের প্রথম বলেই মার্কাস স্টয়নিস এর বলে ওয়ার্নার এর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়ন এর পথ ধরেন বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বিদায়ের পূর্বে ৪১ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪১ রান করেন তিনি। তামিম ইকবালের সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে জুটি বাধতে মাঠে আসেন মি. ডিপান্ডেবল খ্যাত বিশ্বসেরা উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

 

চিত্রঃ মুশফিকুর রহিম (১৫)

 

২৫ তম ওভারের প্রথম বলে মিচেল স্টার্ক এর একটি উইকেট সোজা বল এর লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান তামিম ইকবাল। মিচেল স্টার্ক এর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৭৪ বলে ৬২ রান করেছিলেন বাংলাদেশের এই ড্যাসিং ওপেনার। দলীয় ১৪৪ রানে তামিম ইকবালের বিদায়ের পর লিটন দাসও দর্শকদের হতাশ করেছেন। বিদায় নিয়েছেন খুব দ্রুত। দলীয় ১৭৫ রানে অ্যাডাম জাম্পার বলে এলবিডব্লিউ এর ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটসম্যান। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি কোন। ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই টিকে থাকলো রিভিউ নেয়ার পরেও। লিটনের বিদায়ের পর মাঠে নামেন সাইলেন্ট কিলার খ্যাত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ধীরগতিতে শুরু করা রিয়াদও শেষ করে আসতে পারেননি ইনিংসটি। ধীরগতির রিয়াদ অ্যাডাম জাম্পাকে পেয়েই যেন খোলস থেকে বেরিয়ে আসলেন এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান। মুশফিক মাহমুদুল্লাহ এই দুই আত্মীয়ের পার্টনারশীপটাও হয় ইনিংসের সবচেয়ে বড় পার্টনারশীপ। দুজনে মিলে ৯৭ বল খেলে ১২৭রান করেন। দলীয় ৩০২ রানে ৪৬ তম ওভারের তৃতীয় বলে নাথান কোল্টার নাইল এর বলে প্যাট কামিন্সের হাতে তালুবন্দি হয়ে ব্যাক্তিগত ৬৯ রানে মাঠ ছাড়েন তিনি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মাঠ ছাড়ার আগে ৫০ বলে ৫টি চার ও ৩ছক্কার সাহায্যে ৬৯ রান করেন। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জায়গায় সুযোগ পেয়ে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে বাংলাদেশের ম্যাচের ভাগ্য অস্ট্রেলিয়ার হাতে তুলে দিয়ে যান সাব্বির রহমান রুম্মান। উইকেটের একপাশে খুঁটি গেড়ে থাকা বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহিম

৯৭ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০২ রান করে অপরাজিত থাকেন। আর অন্যপাশে সতীর্থদের আসা যাওয়া দেখেন মুশফিক। ৪৯ তম ওভারের ২য় বলে মিরাজ ও ইনিংসের শেষ বলে মাশরাফির বিদায়ে ৩৩৩ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

 

ফলাফল ঃ অস্ট্রেলিয়া ৪৮ রানে জয়ী।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ ঃ ডেভিড ওয়ার্নার।

 

২১এ জুন বিশ্বকাপের ২৭তম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড।

 

আমাদের সাথে থাকতে ক্লিক করুন এই লিংকে

About Meraj Sheikh

Check Also

সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদ বনাম রাজস্থান রয়্যালস

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের ৮ম ম্যাচে আজকের দিনে মুখোমুখি হয়েছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও রাজস্থান রয়্যালস। দলকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *