Tuesday , November 12 2019
Breaking News
Home / ক্যারিয়ার / বিশ্ব দিবস / বিশ্ব নারী দিবস
বিশ্ব নারী দিবস
বিশ্ব নারী দিবস

বিশ্ব নারী দিবস

‘‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’’।
নারী কখনো আপনার মা, কখনো আপনার বোন কখনো স্ত্রী আবার কখনও আপনার বন্ধু। বিভিন্ন সম্পর্কের মাঝে তাদের সঙ্গে আপনার আমার সম্পর্ক। নিজেকে অন্যের সুখে হাসতে হাসতে বিলিয়ে দিতে পিছপা হন না এই নারী। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পার করেই চলে এই নারীর জীবন। যার জন্য উৎসর্গ করা যায় বছরের প্রত্যেকটি দিন। তাকে উদ্দেশ্য করে যা-ই করা হয়, তা-ই হয়তো তার করা কাজের কাছে কম।

তাই তার উদ্দেশ্য করে আর তাকে সম্মান জানাতে বিশ্বে একটি দিন পালিত হয় নারী দিবস হিসেবে। সেই দিনটি হল ৮ মার্চ।
নারী দিবসের উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস।
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি-বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে চলে সরকারের লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউ ইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চে নারী দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করছে। বর্তমানে পৃথিবীজুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি, নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। সেই থেকেই আজ অবধি ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব নারী দিবস’।

আমাদের সমাজে নারীদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার ভিতর দিয়ে যেতে হয়।সে ইচ্ছে করলেই যে কোন কাজ করতে পারে না।তাকে কৈফিয়ত দিতে হয়।একটু স্বাধীন ভাবে কাজ করতে চাইলে তাকে প্রতিনিয়ত শুনতে হয় হরেক রকমের কথা।যা তার কাজের অন্ত রায়।কিন্তু সে কাজটা যদি কোন ছেলে করে তাহলে তাকে স্বতস্ফূর্তভাবে সম্মত দেওয়া হয়।অথচ যদি একই কাজ সেই মেয়েটি কে ও স্বতস্ফূর্তভাবে করার অনুমতি দেওয়া হতো তাহলে মেয়েটি ও কাজটি করে আনন্দিত হতো।হয়তো কাজের সাফল্যের ফলাফল আরো ভালো হতো।তারপরও একটি মেয়ে সামাজিক সব দায়িত্ব পালন করে সামনে এগিয়ে যায়।নিজেকে দাঁড় করিয়ে আনে সমাজের কোন উচ্চতর স্থানে।কখনও সে সফল হয় কখনো হয় না।তবুও সে হাল ছাড়ে না।তাকে এগিয়ে যেতে হবে।হোক না সে কোন কাপড় বিক্রেতা,হোক না সে কোন গারমেন্টসে কাজ করা কোন নারী। অথবা রাস্তার ধারে পিঠে বিক্রেতা,অথবা কোন প্রতিষ্ঠান এ কম’রত কোন নারী।শুধুই গৃহে নয় তাকে কম’স্থানে হতে হয় এই বৈষম্যের শিকার। আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন না করলে এই বৈষম্য শেষ হবে না।

একটু ভিন্ন দৃষ্টি কোণ থেকে তাকাতে আমাদের এই সমাজ অপরাগ।না হয় সমাজ দেখতে চায় না,শুনতে চায় না।যেটা শতবর্ষ ধরে চলে আসছে সেভাবে চলতে হবে বা চলতে হবে।
আজকের বিশ্ব কিন্তু থেমে নেই সে এগিয়ে চলছে।যুগের সাথে যদি পরিবর্তন না হওয়া যায়, এগোনো যায় না।আমি, আপনি যদি যুগের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তন হতে না পারি।তাহলে আমাদের দেশের বিশাল উন্নয়নের জন্য তা হবে অন্তরায়ও। আমাদের চিন্তা ধারার অমূলক পরিবর্তন আনতে পারে এক বিশাল সম্ভাবনা,আনতে পারে এক বিশাল পরিবর্তন।

আমাদের সমাজের বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে মেয়েরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ইচ্ছা পোষণ করতে পারেনা। সমাজের নানা বেড়াজালে আটকে থাকে তাদের জীবন। কিন্তু তারপরেও কিছু সাহসী নারী রয়েছে যারা এসব বাঁধা ভেঙে নিজেদের এগিয়ে নিচ্ছে সফলতার পথে।
নারী স্বাধীনতার কথা শুধু নারী দিবসেই নয়, নারী স্বাধীনতা থাকুক সবসময় সর্বত্র।।

লেখকঃ বীথি সুলতানা

About moktokotha

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *